August 9, 2026, 7:51 am
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ছেলের ধারালো দা’য়ের কুপে আহত পিতা ইব্রাহীম খলিল (৫০) নিহত হয়েছে। ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে চমেক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্যাঘোনা এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজ ছেলে পিতাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা জখমী ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালের আইসিওতে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের ইব্রাহীম হার্ডওয়ার নামক প্রতিষ্টানের স্বত্তাধিকারী ও মগনামা ইউনিয়নের দরদরিঘোনার জানে আলমের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সাংসারিক কলহ নিয়ে ইব্রাহীম ও তার স্ত্রী বেলুয়ারা বেগমের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। ইব্রাহীমের ছেলে মো: ইসমাইল দোকান থেকে পিতার অজান্তে টাকা নিয়ে লুকোচুরি করে। ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে ফেলে। এতে করে স্বামী-স্ত্রী দম্পতির মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল পিতাকে এর আগে মায়ের সাথে ঝগড়া না করতে সতর্কও করে। ছেলের উত্তেজিত ভাব ও হিং¯্রতা বুঝতে পেরে হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী ইব্রাহীম ভয়ে তিন রাত বাড়িতে ঘুমাননি। চাচার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনদিন। ঘটনার দিন সকালে ইব্রাহীম চাচা আবু ছৈয়দের বাড়ি থেকে রাত্রিযাপন শেষে নিজ বাড়িতে আসেন। এ সময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা তার ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র মো: ইসমাইল ধারালো দা নিয়ে ইব্রাহীমকে মাথায় কুপিয়ে জখম করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ইব্রাহীমের ভাই আজমগীর জানান, আমার ভাইকে মাথায় কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। চমেক হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ আইসিওতে রাখা হয়েছিল। ঘটনার ১২ দিন পর আমার ভাই মারা গেল। ইসমাইলকে দা এনে দিয়েছে আমার বড় ভাইয়ের শ্যালিকা সাদিয়া। আর বড় ভাইয়ের স্ত্রী ছেলেকে সহযোগিতা করেছে। মা ও ছেলে মিলে কি নিষ্টুরতা হয়েছে আপনারা দেখলে অবাক হবেন। ভাগিনা মোক্তার জানান, ছেলের এমন কান্ড দেখে আমরা স্তম্ভিত হয়েছি। তারা কি পশু। বোন দিলোয়ারা বলেন, আমার ভাইকে যারা কুপিয়ে নিহত করেছে আমি এদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। পেকুয়া থানার ওসি ফরহাদ আলী জানান, এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় মামলা করা হয়েছিল। নিহতের বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি।